মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ প্রায় দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশটিতে সম্প্রতি পাম অয়েলের উৎপাদন বেড়েছে। সে তুলনায় রফতানি কমে যাওয়া মজুদ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। গতকাল রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১১ জন ব্যবসায়ী, কৃষক ও বিশ্লেষকের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, জুলাই শেষে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনে, যা জুনের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, মাসভিত্তিক হিসাবে উৎপাদন ৮ শতাংশ বেড়ে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মুম্বাইভিত্তিক ভেজিটেবল অয়েল ব্রোকার প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের রিসার্চ হেড অনিল কুমার বাগানী বলেন, ‘উৎপাদনে ঊর্ধ্বগতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহার কিছুটা কমে আসায় মজুদ বাড়ছে। তবে উৎপাদনের মৌসুমে ২০ লাখ টনের ওপরে মজুদ অস্বাভাবিক নয়, বিশেষত যখন ইন্দোনেশিয়া বি৪০ বায়োডিজেল নীতির কারণে রফতানি সীমিত রেখেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে দক্ষিণ আমেরিকা ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের সয়াবিন তেলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়বে।’
এদিকে আগের মাসের পতনের পর জুলাইয়ে পাম অয়েলজাত পণ্য রফতানি ৩ দমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি হিসাবে জুন শেষে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল মজুদের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৩০ হাজার ৫৮০ টন। জরিপে উল্লিখিত রফতানি ও সমাপনী মজুদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৫ টনে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে জুলাইয়ে পাম অয়েল রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কারণ আগস্ট থেকে দেশটিতে বাড়তি রফতানি শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে আইএফএফসিওর ট্রেডিং ও প্রকিউরমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার তাজগির রহমান বলেন, ‘উচ্চ শুল্ক কার্যকরের আগে যতটা সম্ভব পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল ইন্দোনেশিয়া।’